
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সামরিক উত্তেজনা আরও তীব্র হয়েছে। টানা তৃতীয় রাতের মতো ইরানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। এর জবাবে উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে পাল্টা হামলার দাবি করেছে ইরান। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে চলছে তীব্র বাকযুদ্ধ।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় বিকেলে ইরানের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নতুন করে হামলা শুরু হয়। তাদের দাবি, হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক মানুষ ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলা চালানোর ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করতেই এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, সোমবার রাতভর দেশটির দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর আব্বাস, কিশ ও কেশম দ্বীপ এবং বুশেহর প্রদেশের বিভিন্ন এলাকায় একাধিক বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। ফার্স নিউজ এজেন্সির তথ্য অনুযায়ী, বন্দর আব্বাসের পশ্চিমাঞ্চলে একটি গোলা আঘাত হানলেও এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এদিকে তাসনিম নিউজ এজেন্সি দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী কয়েকটি ‘নিয়ম লঙ্ঘনকারী’ জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরানি বাহিনী। একই সঙ্গে বন্দর আব্বাসের কাছে যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি একটি ড্রোন ভূপাতিত করারও দাবি করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত জানিয়েছে, ওমানের জলসীমায় হরমুজ প্রণালিতে তাদের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ইরানের ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে। এতে একজন ভারতীয় নাবিক নিহত এবং আরও আটজন আহত হয়েছেন।
এদিকে ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) জানিয়েছে, উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে প্রতিশোধমূলক অভিযান আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। ইরানের সেনাবাহিনীর দাবি, তারা কুয়েতে মার্কিন সামরিক স্থাপনায় ড্রোন হামলাও চালিয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর নেতৃত্বাধীন জয়েন্ট মেরিটাইম ইনফরমেশন সেন্টার (JMIC) জানিয়েছে, মঙ্গলবার থেকে ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনর্বহাল করা নৌ অবরোধ কার্যকর হবে। তবে ইরান ছাড়া অন্য গন্তব্যে যাওয়া জাহাজ হরমুজ প্রণালি ব্যবহার করতে পারবে। সন্দেহভাজন জাহাজে তল্লাশি চালানো হবে এবং নির্দেশনা অমান্য করলে তা অচল করে দেওয়া বা ধ্বংস করারও সতর্কতা দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: আল জাজিরা ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম।